বাতের ব্যথা হলে কি খাওয়া উচিত - বাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়

শরীরের জয়েন্টে ব্যথা বা মাংসপেশিতে ব্যথা হওয়ায় মূলত বাতের ব্যথা। বাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে হলে যে উপায় গুলো অবলম্বন করবেন বা মেনে চলবেন সেগুলো নিয়ে আজকে আমরা আলোচনা করব। এছাড়াও বাতের ব্যথা হলে কি খাওয়া উচিত সে বিষয়টা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করব। বাতের ব্যথা থেকে কিভাবে মুক্তি পেতে হয় সে বিষয়ে জানতে আমাদের সঙ্গে থাকতে হবে। 

বাতের ব্যথা হলে কি খাওয়া উচিত - বাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়

এছাড়াও বাতের ব্যথা কি, বাতের ব্যথা কেন হয় বা বাতের ব্যথা হওয়ার কারণ কি সেই বিষয়গুলো নিয়েও আজকে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব। আর সব থেকে যে বিষয়টি বেশি জানা প্রয়োজন সেটি হচ্ছে বাতের ব্যথা হলে কি খাওয়া উচিত। বাতের ব্যথা হলে কি খাবেন বা কোন কোন খাবার খাবেন সেইসব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তাই সম্পূর্ণ পোস্ট জুড়ে আমাদের সঙ্গেই থাকুন।

সূচীপত্রঃ

বাতের ব্যথা কি

বাতের ব্যথা হলে জয়েন্টে ব্যথা বাঁকা হয়ে যাওয়া, ফুলে যাওয়া, কাজ করতে সমস্যা হওয়া, জয়েন্টের মাংসপেশিতে ব্যথা, আপনার দেহের রোগ প্রতিরোধ সিস্টেম ও ইমিউন সিস্টেম আপনার জয়েনগুলোকে আক্রমণ করার কারণে লালবাগ গিরাই গিরায় ব্যথা হয়। এখনকার সময়ের অনেকেরই এই বাতের ব্যথা রোগে ভুগে থাকে।

প্রথম পর্যায়ে বাতের ব্যথা অদৃশ্য রোগ সেজন্য রোগীর নিজের বাতের ব্যথা সমস্যার শারীরিক ধারণা গুলো থাকা প্রয়োজন এই রোগ প্রতিটি রোগীর বয়স হিসেবে প্রত্যেকটি রোগীর ভিন্ন ভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। বাতের ব্যথা জন্য ব্যায়াম খুবই একটি কার্যকরী। ফলে রোগী একটু রিলাক্স ফিল করতে পারে।

বাতের ব্যথা নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত কাজ না করা, শারীরিক দিক খেয়াল রাখা, ঠিকমতো বিশ্রাম নেওয়া, শারীরিক ও মানসিকভাবে চাপ না নেওয়া। আমরা যদি আমাদের ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারি তাহলে অধিকাংশ বাতের ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বাতের ব্যথা প্রতিনিয়ত কমতে বাড়িতে থাকে এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে একটু বড় অংশ কেটে নেই। বাতের ব্যথা হলে জয়েন্টগুলোতে ব্যথা এবং শক্ত হয়ে যাওয়া লাল ভাব দৃশ্যমান হয়।

বাতের ব্যথার কারণ

বিভিন্ন কারণে বাতের ব্যথা হয়ে থাকে। তার মধ্যে একটি হলো জেনেটিক, কারো আম্মা-আব্বু ও রক্ত সম্পর্কিত আত্মীয়-স্বজনের ভেতরে যদি এই রোগটি হয়ে থাকে তাহলে তাদের পরের প্রজন্মে এই রোগটিতে আক্রান্ত হতে পারে। পরিবেশগত কারণেও এই রোগটি দেখা দিতে পারে। আবার কাজ না করার কারণেও হতে পারে আমরা এখন যে কোন কাজে পরিশ্রম কম দিয়ে থাকি।

যার ফলে আমাদের শরীরের ওজন বৃদ্ধি হয়, ফলে হাঁটুরগিতে অতিরিক্ত একটি চাপ পড়ে, ফলে বাতের ব্যাথা হতে পারে। আবার অতিরিক্ত মাংস পেশির ব্যবহার হলেও সে ক্ষেত্রেও বাত হতে পারে। বয়সজনিত কারণে বয়স্কদের অনেকের মধ্যেই দেখা দিতে পারে তাদের মধ্যে থেকে মহিলাদের বেশি হয়ে থাকে।

যে যে কারণে বাতের ব্যথা হয়ে থাকে-

  • বয়স বাড়ার সাথে সাথে নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যেই এই বাতের ব্যথা হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় বেশি ওজন বাড়ানোর কারণে ও এটি হয়ে থাকে।
  • ইনজুরি বা আঘাত এর কারণে যে সমস্ত মানুষের একটি জয়েন্টে আহত হয় তাদের সেই জয়েন্টের বাতের ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা হয়ে থাকে।
  • পারিবারিক ইতিহাস -পারিবারিকভাবে ও এটি হয়ে থাকতে পারে।
  • ওজন যদি বেশি হয় এবং কাজে যদি পেশি শক্তি বেশি ব্যবহার করা হয় তাহলে পেশীতে বাতের ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • আবার শারীরিক এবং মানসিকভাবে বেশি চাপের মধ্যে থাকলে সে ক্ষেত্রে বাতের ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সাধারণ মানুষের মধ্যে বাত ব্যথা নিয়ে ধারণা রয়েছে যে, শুধু গিতে গিতে ব্যথা বোধ করাই বাত ব্যথার একমাত্র লক্ষণ। আবার আরেকটি চোখ বন্ধ করা ধারণা রয়েছে যে, বাত ব্যথা শুধুই বয়স্কদের হয়ে থাকে, অন্য কারো নাই। ধারণাটি ভুল মেইন অর্থে বাত ব্যথা সব ধরনের মানুষেরই হয়ে থাকে। ভিন্ন ভিন্ন বয়স অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন লক্ষণ দেখা দিয়ে থাকে এবং ভিন্ন ভিন্ন সমস্যা হয়ে থাকে।

বাতের ব্যথার ঘরোয়া চিকিৎসা

বাতের ব্যথাতে আইস প্যাক দিয়ে ঠান্ডা চাপ দিলে, প্রদাহ এবং বাতের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। আবার অন্যদিকে হালকা গরম পানি দিয়ে ভাপ দিলেও ব্যথা কমতে পারে। এগুলো করলে হাত পায়ের গিরা গুলো শক্ত হয়ে যাওয়া কমাতেও সাহায্য করে। বাতের ব্যাথার আসলে সরাসরি কোন চিকিৎসা নেই। তবে বাতের ব্যথার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কিছু ঘরোয়া চিকিৎসা রয়েছে যেমন-

  • প্রতিনিয়ত হালকা ব্যায়ামের এর মাধ্যমে আপনার শরীরের জয়েন্ট গুলো উন্নত করতে পারেন। তাছাড়া ব্যায়ামের মাধ্যমে আমরা শরীরে পেশি বেশি শক্ত করতে পারি। যার ফলে শরীরের পেশি গুলো আপনার ওজন বহন করতে পারবে সহজে এবং আপনার পেশি উপর থেকে চাপ কমাবে।
  • তুলনা মূলক একটু বেশি বিশ্রাম নেওয়া উচিত এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম আপনার ক্লান্তি ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে। তাই প্রতিদিন নিয়ম করে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে। সেই সাথে শরীরকে একটু বিশ্রাম দিতে হবে। যাতে করে শরীরের সব অবকাঠামো গুলো ঠিক থাকে।
  • ব্যথা থাকবে সে অবস্থায় হাঁটাচলা বা কাজ করার সময় প্রয়োজনে হাতে লাঠি বা স্ক্র্যাচ ব্যবহার করতে পারেন এক্ষেত্রে পেশিতে চাপ কম পড়বে। ব্যথা থাকা অবস্থায় পেশীতে যত কম সম্ভব চাপ প্রয়োগ করার চেষ্টা করবেন অর্থাৎ পেশীতে কখনোই বেশি পরিমাণ চাপ প্রয়োগ করবেন না।
  • যে কোন রকমের জাঙ্ক ফুড ও প্যাকেট জাতীয় খাবার এভয়েড করা ব্যথা কমাতে সবচেয়ে ভালো। তাই নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য এবং ব্যথা কমানোর জন্য সমস্ত রকমের জাঙ্ক ফুড বা প্যাকেট জাতীয় খাবার থেকে নিজেকে একটু দূরে রাখবেন।
  • পানির মধ্যে শরীলের ভারসাম্য কম থাকে, ভার শূন্যতা পেশির চাপ কমিয়ে দেয় যা সাঁতারের মাধ্যমে হাঁটুর ও নিতম্বের জোড় বাড়ায়। তাই নিয়ম করে একটু সাঁতার কাটার চেষ্টা করবেন।

বাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়

বাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে হলে নিজের শরীরের প্রতি পর্যাপ্ত পরিমাণ খেয়াল রাখতে হবে। এখন খেয়াল রাখার বিষয় বলতে বোঝানো হয়েছে নিজের শরীরের প্রতি যত্নবান হতে হবে। যেহেতু বাতের ব্যথা একবার হয়েছে সেহেতু এটা পুরোপুরি দূর করা তো কোনোভাবে আর সম্ভব না। এজন্য এটাকে কমিয়ে রাখতে হলে নিজের শরীরের দিকে বেশি খেয়াল করে যত্ন করতে হবে।

এখন আমাদের মনে প্রশ্ন নিজের শরীরের যত্ন কিভাবে নিব। আসলে আমরা অনিয়ম করে আমাদের ওজনকে বৃদ্ধি করি, আমাদের শরীরে রোগের জন্ম দেই। যদি নিজের শরীরকে সুস্থ রাখতে হয়, তাহলে প্রতিনিয়ত একটু করে ব্যায়াম করতে হবে। আমরা অনেকেই রয়েছি যারা শুধু ঘরে শুয়ে বসে থাকি, কোন ধরনের কাজ কাম করি না। যার ফলে আমাদের শরীরে আরো নতুন নতুন রোগের সৃষ্টি হয়।

নিজেকে এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে হলে ব্যায়াম করা আবশ্যক। তাই প্রতিনিয়ত কম করে হলেও দশ মিনিট করে ব্যায়াম করতে হবে। আর বাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে হলে নিজে শরীরের প্রতি অধিক যত্নবান হতে হবে। কোন প্রকার হাবিজাবি খাওয়া যাবেনা এবং শরীরের মাংসপেশিতে বেশি চাপ প্রয়োগ করা যাবে না। তাহলে চলুন জেনে নেই বাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে হলে শরীরের কিভাবে যত্ন নিতে হবে-

বাতের ব্যথা হলে সিড়ি দিয়ে উঠানামা হাঁটাচলা করতে খুবই সমস্যা হয়। আমরা এটি নিয়ন্ত্রণ করতে আনলোডিং ব্রেস ও সঠিক জুতা ব্যবহার করতে পারি। আবার ব্যথার জায়গায় গরম ও ঠান্ডা পানি দিয়ে ছ্যাঁক দিতে পারি। সময়টা একটু দীর্ঘ ভালো হয় যেমন ১৫ বা ২০ মিনিট যাবত হাঁটাচলা করা যাবে না। প্রয়োজন হলে আধা ঘন্টা পর পর হাঁটাচলা করবেন। নিজের অবস্থান বদলাবেন মোরা ও ফ্লোর এরকম নিচু জায়গায় না বসে চেয়ারে বসতে হবে।

বিভিন্ন ধরনের নরম ফোম ও জাজিমে শোয়ার অভ্যাস বাদ দিয়ে কোন উঁচু বা শক্ত সমান বিছানায় শোবার অভ্যাস করবেন। বিভিন্ন ধরনের ভারী ওজনের জিনিসপত্র এড়িয়ে চলবেন। ব্যথা বেশি হলে কোমোটে বসে টয়লেট করুন। বেশি ব্যথা অনুভব হলে সম্পূর্ণভাবে বিশ্রাম নিন, প্রয়োজনীয় ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে এতে আমাদের জয়েন্টের ব্যথা থেকে অনেকটা ভালো থাকা যাবে।

আমাদের শরীরে ভিটামিন ডি এর ঘাটতি বাতের ব্যথা আরো বাড়িয়ে তোলে। বিশেষ করে শীতের সময় বেশি ভিটামিন ডি এর ঘাটতি অনুভব হয়। তাই ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার বেশি বেশি করে খাইতে হবে এবং ডিম মাশরুম ও দুগ্ধ জাত খাবার খাইতে হবে।

বাতের ব্যথা হলে কি খাওয়া উচিত

বাতের ব্যথা হলে আদা, দারচিনি ও রসুন খেতে হবে, গুলো বাতের ব্যথা দূর করতে অত্যন্ত উপকারী। ফলে আমরা নিয়মিত আদা রসুন খেলে ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। ওমেগা-3, ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার। যেমন মাছের তেল, চিয়া বীজ, সামুদ্রিক মাছ, আখরোট এগুলো খেতে হবে। ভিটামিন সি-এ এবং ই বাতের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

ফাইবার বা প্রচুর আস জাতীয় খাবারও খুব গুরুত্বপূর্ণ, তাজা শাক-সবজি শস্যজাতীয় খাবার এবং তাজা ফল আশের খুবই ভালো উৎস। আবার গ্রিন টি, সয়া এবং আঙ্গুরের মতো ফাইবারযুক্ত খাবারগুলো শরীরের প্রদাহ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

প্রতিনিয়ত যদি আমরা নিয়ম করে এই খাবারগুলো খেতে পারি তাহলে আমাদের বাতের ব্যথা অনেকাংশ দূর হয়ে যাবে। এই খাবারগুলোর সাথে যদি আমরা প্রতিনিয়ত একটু করে ব্যায়াম করি এবং উপরে বাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় গুলো মেনে চলি তাহলে বাতের ব্যথা একদম গায়েব হয়ে যাবে। অবশ্যই নিয়ম করে এসব খাবার গুলো খাওয়ার চেষ্টা করবেন এবং নিয়ম গুলো মেনে চলার চেষ্টা করবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

SM TECHY এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url